The opening page of Sukumar Ray's play লক্ষ্মণের শক্তিশেল in print - set in two columns of Bengali type.

লক্ষ্মণের শক্তিশেল (দ্বিতীয় দৃশ্য) · Lakshmaner Shaktishel (Scene Two)

দ্বিতীয় দৃশ্য

রণস্থল

সুগ্রীবের প্রবেশ

সুগ্রীব। (ভয়ে ভয়ে) কেউ নেই তো?

সুগ্রীবের পদচারণা। বিভীষণের প্রবেশ

বিভীষণ। দেখ, হাঁটছে দেখ—বাঁদুরে বুদ্ধি কিনা!—দূৎ! যুদ্ধ করতে এসেছিস, ওমনি করে হাঁটলে লোকে বাঙাল বলবে যে!—এমনি করে হাঁট।

বিভীষণের হাঁটার নমুনা প্রদর্শন

সুগ্রীব। রেখে দাও তোমার ভড়ং! আমাদের দেশে ওরকম হাড়গিলের মতো করে হাঁটে না!

বিভীষণ। তোদের দেশে আবার দেশে আবার হাঁটতে জানে নাকি? আচ্ছা মানুষ তো!

সুগ্রীব। মানুষ বললে কেন হে? খামখা গাল দিচ্ছ কেন?

নেপথ্যে জাম্বুবানের কণ্ঠস্বর

জাম্বুবান। ওরে তোরা পালিয়ে আয়, রাবণ আসছে।

বিভীষণ ও সুগ্রীব। অ্যাঁ—কি!

গান

যদি রাবণের ঘুঁষি লাগে গায়—
তবে তুই মরে যাবি—তবে তুই ম-রে যা-বি—
ওরে, পালিয়ে যারে পালিয়ে যা
তা না হলে মরে যাবি—
লগুড়ের গুঁতো খেয়ে হঠাৎ একদিন মরে যাবি।

বিভীষণ। ওরে আমার মনে পড়েছে—একটা বড্ড জরুরি কাজ বাকি আছে—সেটা চট করে সেরে আসছি।

[বিভীষণের প্রস্থান

সুগ্রীব। এইবার বোধ হয় রাবণ আসবে—আজ একটা কিছু হয়ে যাবে—ইসপার নয় উসপার—

রাবণের প্রবেশ

গান

সুগ্রীব।
তবে রে রাবণ ব্যাটা
তোর মুখে মারব ঝ্যাঁটা
তোরে এখন রাখবে কেটা
এবার তোরে বাঁচায় কেটা বল্।
(তোর) মুখের দুপাটি দন্ত
ভাঙিয়া করিব অন্ত
তোর এখনি হবে প্রাণান্ত
আয় রে ব্যাটা যমের বাড়ি চল্॥
রাবণ।
ওরে পাষণ্ড, তোর ও মুণ্ড খণ্ড
খণ্ড করিব।
যত অস্থি হাড়, হবে চুরমার, এমনি
আছাড় মারিব॥
ব্যাটা গুলিখোর বুদ্ধি নেই তোর
নেহাত তুই চ্যাংড়া।
আয় তবে আয় যষ্টির ঘায় করিব
তোরে ল্যাংড়া॥
সুগ্রীব।
রেখে দে তোর গলাবাজি
ওরে ব্যাটা ছইচো পাজি
অন্তিম সময় আজি
ইষ্টদেবে কর রে নমস্কার।
তুই রে পাষণ্ড ঘোর
পাল্লায় পড়িলি মোর
উদ্ধার না দেখি তোর
মোর হাতে না পাবি নিস্তার॥
রাবণ।
ওরে বেয়াদব কহিলে যে-সব
ক্ষমা যোগ্য নহে কখন
তার প্রতিশোধ পাবি রে নির্বোধ
পাঠাব শমন সদন॥
রাবণের সুগ্রীবকে প্রহার
সুগ্রীব।
ওরে বাবা ইকী লাঠি
গেল বুঝি মাথা ফাটি
নিরেট গদা ইকী সর্বনেশে!
কাজ নেই রে খোঁচা খচি
ছেড়ে দে ভাই কেদে বাঁচি
সাধের প্রাণটি হারাব কি শেষে?

[ সুগ্রীবের পলায়ন

রাবণ। ছি, ছি, ছি—এত গর্ব করে, এত আস্ফালন করে, শেষটায় চম্পট দিলি? শেম্! শেম্!

লক্ষ্মণের প্রবেশ ও রাবণের গান

রাবণ।
আমার সহিতে লড়াই করিতে
আগ্রহ দেখি যে নিতান্ত—
বুঝেছি এবার ওরে দুরাচার
ডেকেছে তোরে কৃতান্ত।
আমি পালোয়ান স্যাণ্ডো সমান
তুই ব্যাটা তার জানিস কি?
কোথায় লাগে-বাকুরো পাট্‌কিন্
কোথায় রোজেদ্ ভেনিস্কি?
এই যে অস্ত্র দেখিছ পষ্ট
শোভিছে আমার হস্তে
ইহারই প্রভাবে যমালয়ে যাবে
বানর কুল সমস্তে।
অযোধ্যার লোকে যোদ্ধা হয়েছে
শুনে মরি আমি হাসিয়া
(আজি) দেখাব শক্তি রাখিব কীর্তি
দলে বলে সবে নাশিয়া॥

লক্ষ্মণের লাঠি চালনা

লক্ষ্মণ। হ্যাঃ হ্যাঃ হ্যাঃ—হর হর হর হর—মার, মার, মার, মার, মার—কাট কাট কাট কাট কাট কাট—

লক্ষ্মণ শক্তিশেল-হত

লক্ষ্মণ। হা হতোস্মি!

লক্ষ্মণের পতন ও মূর্ছা। রাবণ কর্তৃক লক্ষ্মণের পকেট লুণ্ঠন। হনুমানের প্রবেশ

হনুমান। অ্যাঁ! কি হচ্ছে—দেখে ফেলেছি!

[ রাবণের পলায়ন

বানরগণের প্রবেশ ও গান

বানরগণ।
অবাক কল্লে রাবণ বুড়ো—
যষ্টির বাড়ি সুগ্রীবে মারি
কল্লে যে তার মাথা গুঁড়ো,
অবাক কল্লে রাবণ বুড়ো॥
(আহা) অতি মহাতেজা সুগ্রীব রাজা
অঙ্গদের চাচা খুড়ো
অবাক কল্লে রাবণ বুড়ো॥
(আরে) গদা ঘুরাইয়া দিল উড়াইয়া
লক্ষ্মণের ধড়া চুড়ো—
অবাক কল্লে রাবণ বুড়ো॥
(ওরে) লক্ষ্মণে মেরে বানর দলেরে
কল্লে ব্যাটা তাড়াহুড়ো
অবাক কল্লে রাবণ বুড়ো॥
(ব্যাটা) বুদ্ধি বিপুল যুদ্ধে নিপুণে
কিন্তু ব্যাটা বেজায় ভুঁড়ো,
অবাক কল্লে রাবণ বুড়ো॥

[ লক্ষ্মণকে লইয়া বানরগণের প্রস্থান

[ ইতি সমাপ্তোয়ং লক্ষ্মণের শক্তিশেলাভিধেয়স্য কাব্যস্য দ্বিতীয়ো সর্গঃ ]